মিজানুর রহমান আজহারী

মিজানুর রহমান আজহারীর বয়স, ফ্যামিলি, শিক্ষা এবং জীবনী

মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি

প্রাথমমিক তথ্যঃ

বয়সঃ ২৮ বছর 

শিক্ষাঃ আল-আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর

জন্মস্থানঃ ঢাকা, ডেমরা

প্রাথমিক তথ্যঃ

নামঃমিজানুর রহমান
পদবীঃআজহারী
জন্ম তারিখঃ২৬ জানুয়ারী ২০২০
বর্তমান বয়সঃ৩০ বছর (২০২০ সাল অনুযায়ী)
জন্মস্থানঃঢাকা, ডেমরা, বাংলাদেশ
পৈত্রিক নিবাসঃমুরাদনগর, কুমিল্লা, বাংলাদেশ
প্রফেশনঃইসলামিক বক্তা
জাতীয়তাঃবাংলাদেশী
কর্মজীবনঃ২০১৫ থেকে বর্তমান
স্ত্রী/সহধর্মীনিঃমিস আজহারী
উচ্চতাঃ (অনুমানিক)সেন্টিমিটার হিসেবে- ১৬৭ সেমি।
মিটার হিসেবে- ১.৬৭ মিটার।
ফিট এবং ইঞ্চি হিসবে- ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি।
ওজনঃকেজি হিসেবে- ৭৫ কেজি।
পাউন্ড হিসেবে- ১৬৫ পাউন্ড।

মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমান বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা, যিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তরুন সমাজের মধ্যে সাড়া জাগিয়ে তুলেছেন। তার মুল নাম মিজানুর রহমান । তবে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার কারণে তার নামের শেষে আজহারী শব্দটি যুক্ত হয়েছে।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবনঃ

আল্লামা মিজানুর রহমান আজহারী ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে অবস্থিত। তার বাবা একজন মাদরাসার শিক্ষক এবং তার পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছে।

মিজানুর রহমান আজহারীর বাবা
মিজানুর রহমান আজহারীর বাবা

 

ব্যাক্তিগত জীবন

মিজানুর রহমান আজহারী ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সাথে তার কণ্যার ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। আজহারী এবং তার কন্যার ছবি নিচে সংযুক্ত করা হলো।

আজহারীর মেয়ে
মিজানুর রহমান আজহারীর কোলে তার কন্যা

 

শিক্ষা জীবন

২০০৪ সালে মিজানুর রহমান ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিসর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট করার জন্য মিসরে যান।

মিশর থেকে ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স থেকে ২০১২ সালে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স উত্তীর্ণ হন। মিসরে পাঁচ বছর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে উচ্চতর শিক্ষ এবং রিসার্স করার জন্য মালয়েশিয়া যান। সেখানে গার্ডেন অব নলেজ খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কোরআন এবং সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট করেন। মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮২, চার এর মধ্যে

মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি

জনপ্রিয়তা

মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার সমধুর কণ্ঠ এবং স্টেট ফরওয়ার্ড বক্তব্যের জন্য খুব অল্প সময়ে তরুনদের মাঝে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি মূলত সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাংলাদেশের যুবক ইসলামিক বক্তাদের মাঝে তিনিই প্রথম সোস্যাল মিডিয়ার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন, এর আগে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমাদ শফী সোস্যাল মিডিয়াতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

 

বিতর্ক

মিজানুর রহমান আজহারী বেশ কিছু বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। নিচে কিছু বিতর্ক লিস্ট করা হলো।

  • তিনি তারাবীর নামাজ আট রাকাত ফতোয়া দিয়ে বিতর্কিত হন।
  • করোনার মধ্যে ঈদের নামাজ ঘরে একা পড়া যাবে বলে ফতোয়া দেন, আসলে মুসলিমদের ঈদের নামাজ একা পড়ার নিয়ম নেই।
  • তিনি মেয়েদের জন্য পর্দার আড়ালে প্রজেক্টরে বক্তাকে দেখে ওয়াজ শুনাকে জায়েজ বলেন, তার এই ফতোয়া বাংলাদেশের কওমী আলেমরা প্রত্যাখ্যান করেন।
  • তিনি মহিলাদের মুখ খোলা রাখাকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণার কারলে তিনি কন্ট্রোভার্সিতে জড়িয়ে পড়েন।

দেশ ত্যাগ

তিনি হঠাৎ করে ২০২০ সালের শুরুর দিকে তার সকল প্রগ্রাম বাতিল করেন। এবং ইমিডিয়েটলি মালোশিয়া চলে যান। প্রচলিত আছে যে, তাকে সরকার পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তার কিছু বক্তব্য বর্তমান সরকার দলের বিপক্ষে যাচ্ছিলো। ( আপনি কি এটা সত্য মনে করেন? কমেন্ট করে জানান )

 

বর্তমান অবস্থান

বর্তমানে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী মালোশিয়াতে আছেন, তবে মালোশিয়াতে থেকে তিনি মাঝে মাঝে ফেসবুক লাইভে আসেন এবং তার বক্তব্য লাইভের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার ফেসবুক লাইভে একই সময়ে ২ লক্ষ মানুষ জমা হওয়ার রেকর্ড আছে।

মালোশিয়ার একটি মসজিদে বক্তব্য দিচ্ছেন আজহারী
মালোশিয়ার একটি মসজিদে বক্তব্য দিচ্ছেন আজহারী

 

 

আজহারীর উপার্জন কী?

ফেসবুকে তার একটি ফেসবুক আইডি ও একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ আছে। তবে ফেসবুক পেজকে তিনি মনিটাইজ করেননি। ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। আজহারীর মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন না বরং হাদিয়া হিসেবে যা পান তা-ই নিয়ে থাকেন।

বছরের বেশিরভাগ সময় মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে পিএইচডি করছেন। সময় পেলে তিনি তাফসির মাহফিল করেন। এছাড়া বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন।সেখানে তিনি গেষ্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

আজহারীর কিছু অজানা তথ্য

  • মিজানুর রহমান আজহারী অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ক্লাস ফাইভ এবং ক্লাস টেন এর পরিক্ষায় G.P.A -5 পেয়েছিলেন।
  • তার পৈত্বিক নিবাস কুমল্লার মুরাদনগরে।
  • তিনি ঢাকা ডেমরায় জন্ম গ্রহন করেন।
  • তিনি ইংরেজি বাংলা এবং আরবীতে সমানভাবে পার্দর্শী।

 

রেফরেন্স সমূহ

 

আপনি মিজানুর রহমান আজহারী সম্পর্কে কী জানেন? তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আপনার কমেন্ট আমাদের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হবে।

আপনি যদি এই পোষ্টটি ইডিট করতে চান, কিংবা আমাদের ওয়েব সাইটে লিখতে চান, তাহলে আমাদের মেইল করতে পারেন। আমাদের মেইল ঠিকানাঃ [email protected]

2 thoughts on “মিজানুর রহমান আজহারীর বয়স, ফ্যামিলি, শিক্ষা এবং জীবনী”

  1. RABIUL ISLAM, FROM MALDA,INDIA

    assalamoalikum. asa kor6i apni valo achen. alhamdolilah amio valo achi. amader jonno dua korben.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *